
সংবাদ রিপোর্ট : সাভারের আলোচিত রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মা মজিনা বেগম (৬৫) মারা গেছেন। মায়ের মৃত্যুতে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্ত হয়ে সাভারে এসে জানাজায় অংশ নিয়েছেন সোহেল রানা। এ সময় উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রানা। কারাগার থেকে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক মাদ্রাসা মসজিদে জানাজার জন্য নিয়ে আসে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি কারাবন্দী। ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মাদরাসা মসজিদে প্যারোলে ছাড়া পেয়ে তার মায়ের জানাযায় অংশ নেয় সোহেল রানা । মজিনা বেগম সাভার পৌর এলাকার বাজার রোড মহল্লার মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী। রানার বাবা আব্দুল খালেক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। জানাজায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আমার মা’র জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আমার ভুলের জন্য আমাকে মাফ করবেন সবাই’। রানার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আমরা চাচি মজিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে যক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে প্যারোলে আবেদন করলে আমার চাচাতো ভাই রানাকে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পুলিশ সাভারে নিয়ে আসে। এসময় রানা সকলের কাছে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পরে তাকে সাড়ে ৭ টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোত্তাছিম বিল্লাহ বলেন, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা’র মায়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মা’র জানাযায় নিয়ে আসা হয়েছে। জানাযা শেষে সাড়ে ৭ টার দিকে রানাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি। রানার মায়ের লাশ সাভারের তালবাগ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বহুতলা ভবন রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। পরে সেই ভবনের মালিক সোহেল রানাকে ২৮ এপ্রিল ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছিল। উল্লেখ, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৮ শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন ১ হাজার ১৬৯ জন। এ ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই বছরের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে ভবনের মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র্যাব । এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
Leave a Reply