1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

সাভারে তিন মাসে ২৪ ধর্ষণ মামলা, লোকলজ্জায় থানায় যান না অনেকেই

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

সংবাদ রিপোর্ট: শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় দিন দিন নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সাভার ও আশুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মোট ২৪টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চান না। ফলে প্রকৃত ঘটনা আরও বেশি হলেও অনেকই আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সাভার মডেল থানায় ৬টি এবং আশুলিয়া থানায় ১৮টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সাভার মডেল থানার মামলাগুলোতে ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়, যার মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪ জন এখনও পলাতক।

অন্যদিকে, আশুলিয়া থানার ১৮টি মামলায় ২২ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ১২ জন এখনো পলাতক রয়েছে।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি চলন্ত বাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসে ওঠেন ওই তরুণী। বাসে অন্য দুই যাত্রী নেমে যাওয়ার পর চালক আলতাফ ও তার সহযোগী সাগর তাকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে। পরে সারারাত বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর টাঙ্গাইলের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় তরুণীকে উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্তদের আটক করা হয়।

এছাড়া ২৪ জানুয়ারি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামীকে জিম্মি করে নববধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে র‌্যাব সদস্যরা অভিযুক্ত মোসাদ্দেক খানকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের সনদ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

মার্চ মাসে আশুলিয়ায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. ইমরান ওরফে বিপি ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজন আসামি পলাতক রয়েছে।

এপ্রিল মাসেও সহিংসতার ঘটনা থেমে নেই। বিরুলিয়া ইউনিয়নে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ এপ্রিল সাভার পৌর এলাকার ডগরমোড়া এলাকায় এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বাদল বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও সামাজিক লজ্জা ও মানসম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে চান না। এতে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যায়।

সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন, ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, ট্রাফিক অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন মাসে দায়ের হওয়া ২৪টি মামলায় ৩৩ জন এজাহারভুক্ত আসামি ও কয়েকজন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :