
সংবাদ রিপোর্ট: সাভারের আমিনবাজারের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশের ধাওয়ায় তারা সড়ক থেকে সরে যান।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, সাভারের বিভিন্ন ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে জরিমানা, চিমনি ভেঙে দেওয়া এবং ভাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। অভিযান বন্ধ এবং ইটভাটা চালুর দাবিতে ১৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় তারা মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে তারা দুই পাশের সড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। এ সময় শ্রমিকেরা হ্যান্ড মাইক দিয়ে স্লোগান দেন ইটভাটা চলবে, গাড়ির চাকা ঘুরবে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিক সফিউল্লাহ বলেন, আমরা ছয় মাস ইটভাটায় কাজ করি, বাকি ছয় মাস বাড়িতে। ভাটা বন্ধ হলে খাব কী? আমাদের অনুমতি না দিলে আমরা সড়ক ছাড়ব না।
এবিএম ব্রিকসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ঢালাওভাবে ইটভাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। আমাদের অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়া উচিত। সময় না পেলে হাজার হাজার শ্রমিক না খেয়ে মারা যাবে। দাবি মানা না হলে আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছালেহ আহমেদ বলেন, ইটভাটা চালুর দাবিতে শ্রমিক–মালিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। অনুরোধেও না সরলে পরে ধাওয়া দিয়ে সরানো হয়। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ছিল। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক। এর আগে গত ১৭ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে সাভারের সব ইটভাটায় (শুধু টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানো ও ইট প্রস্তুত নিষিদ্ধ করা হয়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে ১০৭টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করে। পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইলিয়াস আহম্মেদ বলেন, সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানই সাভার এলাকায় পরিচালনা করতে পারবে না এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
Leave a Reply