1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :

অটোরিকশার বাড়তি চার্জে অন্ধকারে সাভারবাসী

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

সংবাদ রিপোর্ট: সাভার-আশুলিয়া। এখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্থায়ী বসবাস। এছাড়া এ এলাকার বিভিন্ন কল-কারখানায় দিন-রাত কাজ করেন আরও কয়েক লাখ শ্রমিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গ্যারেজ, যা বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় গ্রিডে ফলে এলাকাজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার পৌর এলাকায় বর্তমানে ২ হাজার ৩৫০টি অটোরিকশা নিবন্ধিত থাকলেও বাস্তবে চলাচল করছে অন্তত ১০ হাজারের বেশি। যার অধিকাংশই অনিবন্ধিত। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। সাভার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিবন্ধিত অটোরিকশার সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০টি এবং ইজিবাইক ১০০টি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন করে আরও ২৫০টি অটোরিকশা নিবন্ধিত হয়েছে। তবে বাস্তবে অনিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি।অটোরিকশাচালক সফিক বলেন, রিকশা চালাতে নিবন্ধন নিতে হয়, কিন্তু অনেকেই ঝামেলার কারণে তা করেন না। নিবন্ধনের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র লাগে এবং ভ্যাটসহ প্রায় ২ হাজার ১৭০ টাকা খরচ হয়। ইজিবাইকের ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে সাভার পৌরসভায় অটোরিকশা নিবন্ধন নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তেমন চোখে পড়ে না। পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল মোত্তালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। গ্যারেজ মালিক মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, ২০২২ সালে একটি নতুন রিকশার দাম ছিল ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পুরাতন রিকশাও এখন ৬০ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, রিকশার কন্ট্রোলার, মিটার, মোটরসহ অধিকাংশ যন্ত্রাংশ চায়না থেকে আসে। তবে এখন বাংলাদেশেও এসব যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। অটোরিকশাচালক মুকুল বলেন, প্রতি মাসে রিকশার যন্ত্রাংশ মেরামতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন ব্যাটারি চার্জ দিতে গ্যারেজ মালিককে দিতে হয় প্রায় দেড়শ টাকা। আগে একটি জুবরাজ টায়ারের দাম ছিল ৯০০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১,৬০০ টাকা। গেন্ডা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার তালুকদার জানান, সাভার এলাকায় ১ হাজার ১৯২টি গ্যারেজ বৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েছে। এসব গ্যারেজে প্রতিদিন প্রায় ২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাপ অনেক বেশি। অনিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে না আনলে লোডশেডিং কমানো কঠিন, বলেন তিনি। সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন খান নঈম বলেন, ইজিবাইক ও অটোরিকশার কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নেই। একেকটির চাকা, গঠন ও মান আলাদা। এতে চালকের অদক্ষতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাছাড়া ব্যাটারি চার্জে বিদ্যুৎ অপচয় এবং পুরোনো ব্যাটারির দূষণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট নকশা এবং আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সালেহ আহমেদ জানান, আমরা দলগতভাবে কাজ করছি, যাতে কোনো অটোরিকশা মহাসড়কে উঠতে না পারে। তবে দুর্ঘটনা রোধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :