1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

সাভার পৌরসভায় নতুন মুখের ছড়াছড়ি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাভার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রুপান্তরের তৎপরতা শুরু হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। আয়তন ও জনসংখ্যা নির্ধারণে ছিল নানা জটিলতা, ছিল অনেকের আপত্তি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাভারে পৌর নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। মেয়র ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানাভাবে প্রচারণায় রয়েছেন। রোজার মাসজুড়ে চলছে ইফতার আয়োজন ও দোয়া মাহফিল। আগামি পৌর নির্বাচন দলীয় না নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে তা চূড়ান্ত না হলেও মেয়র পদে সরাসরি দলের সমর্থন থাকবে এটা নিশ্চিত। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও দলের সবুজ সংকেত থাকবে। এ অবস্থায় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একঝাঁক নতুন মুখ প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশন রুপান্তর প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পৌরসভা) খলিলুর রহমান বলেছেন, “সাভার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার সমীক্ষা চালানো হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে বর্তমান সরকার এখনো এ নিয়ে কিছু ভাবেনি।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার যাতে সিটি কর্পোরেশন না হয় সেজন্য কয়েক হাজার বাসিন্দা স্বাক্ষর করে আপত্তি জমা দিয়েছেন। সিটি কর্পোরশেন না করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে ওইসব আপত্তিপত্রে। বিগত সরকার প্রধানকে খোলাচিঠি দিয়ে সিটি কর্পোরেশন করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেকের এতে আপত্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের জন্য যেভাবে এলাকা নির্বাচন করে প্রস্তবনা তৈরি করা হয়েছে তাতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সিটি কর্পোরেশন হলে মেয়রের পদমর্যাদা সংসদস্যের উপরে নির্ধারণ করা হলে স্থানীয়ভাবে বিপত্তি তৈরি হতে পারে। সব সমীকরণ মিলিয়ে সাভার সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়া এখন অনেকটা অনিশ্চিত। এর মধ্যে সাভার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আশুলিয়া পৌরসভা করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সাভারে সিটি কর্পোরেশন করা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করেছে। সেখানে সব শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা প্রকৃতপক্ষে সাধারণ ভোটারদের প্রতিনিধি নয় বলে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন।

আগামি নির্বাচনে মাঠে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী। জামায়াত ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হাসান মাহবুব মাস্টার চূড়ান্ত করেছে এক বছর আগেই। চলছে তাদের সাংগঠনিক প্রচারণা। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর লায়ন মো. খোরশেদ আলম, সাভার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওবায়দুর রহমান অভি পুরোদমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রচারণা চলছে। আলোচনায় আছে সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি রেফাত উল্লাহ, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার শাহ মইনুল হোসেন বিল্টু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বদিউজ্জামান বদিরের নাম। মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা কী করবেন এনিয়ে ভোটারদের আগ্রহ থাকবে শেষ পর্যন্ত।

এছাড়া কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে অনেক নতুন মুখ মাঠে নেমেছেন। কয়েকটি ওয়ার্ডে জামায়াত তাদের সমর্থিত কাউন্সিলর পার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে সব ওয়ার্ডেই বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাভার পৌরসভার মোট ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৯ হাজার ২৪৬ জন, মহিলা ৯৯ হাজার ৪২৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন ভোটার রয়েছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ইউনিয়ন ও পৌরসভার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামি জুলাই মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যায়ক্রমে শুরু হতে পারে। পাশাপাশি দেশের সব পৌরসভা নির্বাচন করার বিষয়ে ভাবছে সরকার। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সব মেয়র ও কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করায় পৌরসভার কার্যক্রম চলছে প্রশাসক দিয়ে। এতে নাগরিকরা ঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেনা না।

কাউন্সিলর পদে ৯ ওয়ার্ডে আলোচনায় যারা:

কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ডে আকতার হোসেন বেপারী, আশেক আলী মোল্লা, মো. মনিবুর রহমান চম্পক, তালুকদার জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, রতন মিয়া, ২ নং ওয়ার্ডে আবুল হোসেন মোল্লা, নাজমুল আলম সজীব, ইয়ার রহমান উজ্জ্বল, কাজী চন্দন, ৩ নং ওয়ার্ডে মোশাররফ হোসেন মোল্লা, রাশিদুজ্জামান বাচ্চু, জাহাঙ্গীর আলম, ৪ নং ওয়ার্ডে উত্তম ঘোষ, এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান সোহাগ, মো. শাহীন আলম বাপ্পী, হাজী মো. মুসলিম উদ্দিন ফকির, সোলেমান ফকির সুমন, জয়দেব সাহা, ৫ নং ওয়ার্ডে আব্দুল্লাহ হোসেন ইউসুফ, ফেরদৌস আহমেদ প্রদীপ, রাজ্জাকুর রহমান, শহিদুল ইসলাম কামাল, ৬ নং ওয়ার্ডে হাজী মো. আহসান উল্লাহ, হাসিবুর রহমান খান, দেলোয়ার মাদবর, ৭ নং ওয়ার্ডে আব্দুর রহমান, মো. ইউনুস খান, ৮ নং ওয়ার্ডে মেহেদী হাসান শহীদ, মোশারফ মোল্লা, রাশেদুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল কাদের, রহিম পালোয়ান, ৯ নং ওয়ার্ডে আমিন উদ্দিন খান সুমন, মনজুরুল ইসলাম, মো. হাফিজ মোল্লা, আশরাফুল ইসলাম আরিফ, হাজী মোহাম্মদ আলী মোল্লা, হাজী মো. ফরহাদ হোসেন ও রাশেদ মোল্লা প্রচারণায় আছেন। এদের বাইরে কয়েকটি ওয়ার্ডে আলোচনায় আছে অনেক নাম। তন্মধ্যে ৪ নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল ও খোরশেদ আলমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ডে ইয়াসমিন আক্তার সাথী, পারভীন আমান, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে ডারফিন ডাক্তার, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট তানজিনা আফরিন, তানিয়া ইয়াসমিন ও নাহিদা আক্তার কনা আলোচনায় আছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :