1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

আসন পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবে ঘোর আপত্তি 

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

সংবাদ রিপোর্ট : সাভার উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে। এই উপজেলায় ঢাকা-১৯ আসন (সাভার-আশুলিয়া) আসন ছাড়াও ঢাকা-২ ও ঢাকা-১৪ এর অংশ বিশেষ রয়েছে। অনেকদিন ধরে পুনর্বিন্যাস করতে নির্বাচন কমিশন অনেকদিন ধরে কাজ করছে। এর পর একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। সেখানে ঢাকা-১৯ আসন থেকে বিরুলিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়নকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই দুই ইউনিয়নকে ঢাকা-২ আসনে অন্তর্ভূক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে যুক্ত কাউন্দিয়া ইউনিয়নকে ঢাকা-২ আসনে অন্তর্ভূক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুনর্বিন্যাসের এই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে বিরুলিয়া, বনগাঁও ও কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করেছেন। সাভারের আদি বাসিন্দারা হতভম্ব হয়েছেন।

অনেক ভোটারের দাবি, ১২টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা মিলে একটি আসন করা হোক। যেটি আগে ঢাকা-১২ আসনে ছিল। আবার সাভার থানা ও আশুলিয়া থানার অন্তর্গত এলাকা নিয়ে পৃথক দুটি আসন করার কথাও বলছেন অনেকে। এছাড়া বর্তমান অবস্থা বহাল রাখার পক্ষেও মত দিচ্ছেন অনেকে।

সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, আসন পুনর্বিন্যাসে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ যেসব আসন পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তাব এসেছে সেসবে জটিলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। তিনি বলেন, বনগাঁও এবং বিরুলিয়া ইউনিয়ন এখনকার মতো ঢাকা-১৯ আসনের সঙ্গে থাকুক এটা তার প্রত্যাশা। এজন্য আপীল, উচ্চ আদালতে রিট, মানববন্ধনসহ সব ধরনের কর্মসূচী পালন করা হবে। ঢাকা জেলা প্রশাসক ও সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাভার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে আপীল ও রিট করাসহ সার্বিক বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহপরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. সালাউদ্দিন মনে করেন, আসন পুনর্বিন্যাসের এই চেষ্টার পিছনে সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার জং তালুকদার ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য হন। তখন সাভার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সঙ্গে গাজীপুরের কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি ইউনিয়ন যুক্ত ছিল এই আসনে। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ ইদ্রিস নির্বাচিত হন। পরে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি ইউনিয়ন ঢাকা-১২ থেকে বাদ দিয়ে গাজীপুরের একটি আসনে যোগ করা হয়। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রাথী শামসুদ্দোহা খান মজলিশ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন খান ইমু, ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী নিয়ামত উল্লাহ সাবু, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে সাভার সদর ইউনিয়নের বড় অংশকে পৌরসভা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালে ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনের সীমানায় কাটছাট করা হয়। এই আসন থেকে বাদ যায় ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ও কাউন্দিয়া ইউনিয়ন। ভাকুর্তা, তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ইউনিয়ন যুক্ত হয় ঢাকা-২ আসনে কেরাণীগঞ্জের সঙ্গে। কাউন্দিয়া ইউনিয়ন ঢাকা-১৪ আসনে মিরপুরের সঙ্গে যোগ হয়। ঢাকা-১৯ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য হন আওয়ামী লীগের তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সাইফুল ইসলামের কাছে হেরে যান। বিএনপি, জামায়াতসহ উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করে।

এদিকে, ভোটার এবং জনসংখ্যা বিবেচনায় ঢাকা-১৯ আসন পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড় শুরু হয় কয়েক বছর আগে। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। আপত্তি না থাকলে আগামি ১০ আগষ্ট পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত হতে পারে। যদিও পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়ায় অনেকের আপত্তি রয়েছে। আবার রাজনীতিতে সক্রিয় এমন কয়েকজন এই পুনর্বিন্যাসে খুশি বলে জানা গেছে।

সাভার উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ও পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। আর সংসদীয় আসনে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং দুটি আসনের অংশ এই উপজেলার তিন ইউনিয়নের ভোটাররা।

বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, সাভার-আশুলিয়া শিল্প এলাকা হওয়ায় ঢাকা-১৯ আসনে ভোটার ও জনসংখ্যা বেশি। তবে প্রতিবছর এই আসনের অনেক কর্মজীবি মানুষ অন্যত্র চলে যান। তাদের অনেকে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করেন না। সেই হিসাবে ভোটার তালিকায় না থাকায় বাসিন্দা না হলেও আনুপাতিক জনসংখ্যা বেশি বলে গণ্য হয়। কিন্তু গত কয়েকটি সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার হার বা পরিসংখ্যান মূল্যায়ন করলে তালিকায় থাকা ভোটারের অনেক বড় অংশ অন্যত্র চলে যাওয়ার হিসাব মিলে। আবার ভোটার তালিকায় নাম ছিল মারা গেছেন এমন ব্যক্তিদের নামও বাদ যায়নি তালিকা থেকে। সব হিসাব মিলালে পুনর্বিন্যাসের নতুন হিসাব পাল্টে যেতে পারে। পুনর্বিন্যাসের জন্য নির্বাচন কমিশনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার দাবি করেছেন একাধিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ঢাকা-১৯ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৫ জন ও নারী ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। যা বনগাঁও বিরুলিয়া ইউনিয়নের ভোটারসহ।

সাভার উপজেলার মোট ভোটার ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮০৭ জন। সাভার পৌর এলাকায় মোট ভোটার এক লাখ ৯২ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৬৫৪৩, মহিলা ৯৫ হাজার ৭৫৭, তৃতীয় লিঙ্গের আটজন।

শিমুলিয়া ইউনিয়নে পুরুষ ৩৪ হাজার ১১, মহিলা ৩১ হাজার ১৫৮, তৃতীয় লিঙ্গের একজনসহ মোট ৬৫ হাজার ১৭০ জন, ধামসোনা ইউনিয়নে পুরুষ ৯২ হাজার ২০৬, মহিলা ৯১ হাজার ৭৭৯ জনসহ মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৫ জন, পাথালিয়া ইউনিয়নে পুরুষ ৩৫ হাজার ১১৫, মহিলা ৩৩ হাজার ৯৮২ জন, তৃতীয় লিঙ্গ একজনসহ মোট ৬৯ হাজার ৯৮ জন, ইয়ারপুর ইউনিয়নে পুরুষ ৪৬ হাজার ৩৬০, মহিলা ৪১ হাজার ৪৪৭ জনসহ মোট ৮৭ হাজার ৮০৭ জন, আশুলিয়া ইউনিয়নে পুরুষ ৪০ হাজার ৬৯৬, মহিলা ৩৬ হাজার ৯২২, তৃতীয় লিঙ্গের দুইজন মোট ৭৭ হাজার ৬২০ জন, সাভার সদর ইউনিয়নে পুরুষ ১৬ হাজার ৪৮৩, মহিলা ১৪ হাজার ৯৫১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের একজনসহ মোট ৩১ হাজার ৪৩৫ জন, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে পুরুষ ৩৪ হাজার ১১২, মহিলা ২৮হাজার ৭৬৫, তৃতীয় লিঙ্গের দুইজনসহ মোট ৬২ হাজার ৮৭৯ জন, আমিনবাজার ইউনিয়নে পুরুষ ১৩ হাজার ৪শ, মহিলা ১৩ হাজার ১৩৪ জনসহ মোট ২৬ হাজার ৫৩৪ জন, ভাকুর্তা ইউনিয়নে পুরুষ ২০ হাজার ৬০১, মহিলা ১৭ হাজার ৬৩০ জনসহ মোট ৩৮ হাজার ২৩১ জন, বনগাঁও ইউনিয়নে পুরুষ ১৪ হাজার ৮১৩, মহিলা ১৩ হাজার ৪৬৭ জনসহ মোট ২৮ হাজার ২৮০ জনসহ, বিরুলিয়া ইউনিয়নে পুরুষ ১৫ হাজার ৫৬, মহিলা ১৩ হাজার ৬৯৬ জনসহ মোট ২৮ হাজার ৭৫২ জন, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে পুরুষ ১০ হাজার ৮৭৫, মহিলা ১০ হাজার ৩৪৭ জনসহ মোট ২১ হাজার ২২২ জন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে পুরুষ ৫ হাজার ১৬০ মহিলা এক হাজার ৩২৬ জনসহ মোট ৬ হাজার ৪৮৬ জন ভোটার।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ আসন বিন্যাস প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন নির্বাচন কমিশনে। সাভার থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক আনোয়ার হোসেন সাভার ও আশুলিয়া থানার ভোটার সংখ্যা উল্লেখ করে আসন পুনর্বিন্যাস পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। বনগাঁও, আমিনবাজার ও কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারাও আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন নির্বাচন কমিশনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :