1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন, ব্যাহত শিল্পায়ন

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২

সংবাদ রিপোর্ট: সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত তুরাগ ভাঙা ব্রিজ। এই ব্রিজটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যুক্ত হয়ে সড়ক পথে তা সংযোগ স্থাপন করেছে কেরানীগঞ্জ ও বাবুবাজার ব্রিজের সঙ্গে। অন্যদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধেও যাওয়া-আসার সংযোগ এই সড়কে। প্রতিদিন তুরাগ ব্রিজ দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিক-আপ ভ্যান, ও ট্রাকসহ চলাচল করছে শত শত যানবাহন । সাভারের ভাকুর্তা মুগড়াকান্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সড়কের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপুর্ণ তুরাগ বেইলি ব্রিজের এই অবস্থার ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী হাজারও মানুষকে। ব্রিজের মাঝখানের পাটাতন নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন এসব যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাটাতন ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে যাওয়ায় সরু সেতুটির একপ্রান্ত দিয়ে কোনোমতে একটি গাড়ি অতিক্রম করার সময় সড়কের দুইদিকে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। এই সেতু থেকে একই সড়কের মাত্র ৪০০ মিটারের মাঝে আরও দুটি সেতুও জরাজীর্ণ। এরই মাঝে এই তিন সেতু দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এই সড়কের তিন ঝুঁকিপুর্ণ সেতুর কারণে রাজধানীর কাছের এই অঞ্চলে হচ্ছে না শিল্পায়ন। স্থানীয়রা জানান, বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এলাকায় নির্মাণ সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, অটোভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দিলেও সেতুটির মেরামতের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সেতু দুটি সংস্কার ও তুরাগ ভাঙ্গা লোহার সেতু নতুন করে নির্মাণ করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের৷ অটোভ্যান চালক নজরুল, ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন, কলেজছাত্র রবিনসহ অনেকেই জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রিজগুলো এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। দ্রুত এর সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। পিক-আপ চালক সাইফুল বলেন, অনেক সময় এক-দেড়ঘন্টা জ্যাম লেগে যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তখন। একটা গাড়ি আসলে আরেকটার জন্য ওয়েট করতে হয়। ভয় লাগে অনেক, কোন সময় গাড়ি নিয়ে আবার ভেঙে পানিতে পড়ে যাই কিনা। স্থানীয় বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমেদ জানান, এই ভাঙা ব্রিজের জন্য আমাদের ভাকুর্তার একাংশ এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। অতিদ্রুত এই তিনটি ব্রিজকে যদি সংস্কার করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়, তাহলে ভাকুর্তাবাসীর অনেক উন্নতি ঘটবে, ভাকুর্তাবাসীর দুঃখ লাঘব হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বলেন, এই ব্রিজটি যখন নির্মাণ হয় তখন এই এলাকায় তেমন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। সে কারণে অত্যন্ত সরু এই ব্রিজ দিয়ে একটি গাড়ি যখন পার হয় তখন বিপরীত পাশের গাড়ি পার হতে পারে না। এ কারণে প্রতিদিনই শত শত গাড়ি পার হতে গিয়ে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি যেহেতু ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সঙ্গে এই ব্রিজগুলো সংযুক্ত, তাই মহাসড়কেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়। আমরা ইকোমধ্যে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতর, উপজেলা এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। আমাদেরকে আশস্ত করা হয়েছে খুব দ্রুতই এই ব্রিজগুলো নতুনভাবে নির্মাণ করে দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঢাকার বনানী সড়ক বিভাগের আওতাধীন। আমি সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে জানিয়েছেন এই তিনটি ব্রিজের জন্য টেন্ডার কার্যক্রম ইতোধ্যে সম্পাদন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তারা ফিল্ডে কাজে আসবেন। আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাসিক সমন্নয় সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি অতি দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :