1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

সালাউদ্দিনের সমর্থনে অন্যরাও একমঞ্চে

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

সংবাদ রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। এই আসনে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন ঘোষণার পর ডা. সালাউদ্দিন সবাইকে কাছে টেনে নিয়েছেন। তিনি নিজেই ছুটে গেছেন ¯’ানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বাড়িতে। অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন। সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন সরকারও তাকে কাছে টেনে নিয়েছেন। সাবেক পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, পৌর বিএনপির সভাপতি খন্দকার শাহ মইনুল হোসেন বিল্টু, সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুলসহ অন্যরা ডা. সালাউদ্দিনের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের জন্য কাজ শুরু করেছেন। তারা সবাই জামায়াত ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের বিরুদ্ধে ভোট চাইছেন।
ঐতিহাসিক বিপ্লব ও জাতীয় সংহতি দিবস উপলক্ষে সাভার থানা রোডের সাভার সরকারি কলেজ হোস্টেল মাঠে (তারাপুর মাঠ) গত ৯ নভেম্বর রোববার আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু।
সাভার পৌর, থানা ও আশুলিয়া থানা বিএনপি আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাভার পৌর বিএনপির সভাপতি খন্দকার শাহ মাইনুল হোসেন বিল্টু। সমাবেশে অনেকের মধ্যে উপ¯ি’ত ছিলেন সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী জামাল উদ্দিন সরকার, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন, সাভার থানা বিনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো: রেফাত উল্লাহ, জাকসুর সাবেক ভিপি আশরাফ উদ্দিন খান, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর, সিনিয়র সহসভাপতি বাছেদ দেওয়ান, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন খোরশেদ আলম, পৌর বিএনপির ফেরদৌস আহমেদ প্রদীপ, নাজমুল আলম খান, আহসান উল্লাহ, ইব্রাহীম মিয়া বাহাদুর, হাফিজুর রহমান খান নাঈম, শ্রমিক দল নেতা দ্বীন ইসলাম, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মাইন উদ্দীন বিপ্লব, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিনি আকতার উর্মি, আশুলিয়া থানা বিএনপির সহসভাপতি ইলিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন, আশুলিয়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রহমান বাবুল, সাভার থানা বিএনপির সহসভাপতি আমজাদ হোসেন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, আজমল খানমজলিশ পাপ্পু, বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর রহমান অভি, সুরুজ্জামান, ব্যারিষ্টার শিহাব উদ্দিন খান, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল সভাপতি তমিজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল, সাবেক কাউন্সিলর ডারফিন আক্তার, পৌর স্বে”ছাসেবক দলের মেহেদী হাসান মাসুম, আসাদুজ্জামান মোহন, দেলোয়ার মাদবর, আব্দুল্লাহ ইউসুফ, ছাত্রদলের হিমেল খান, তাজ খান নাঈম, যুবদলের ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদির, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান।
প্রধান অতিথি বিএনপি নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি মহল বানচাল করার চেষ্টা করছে। তারা নানা দাবি তুলে আঙ্গুল বাঁকা করতে চা”েছন। কিš‘ আমি বলতে চাই, আগামী ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন ব্যক্তি বা শক্তি তা ঠেকাতে পারবে না। আসন্ন নির্বাচনে দেশবাসী এবং বিএনপি নেতাকর্মীগণ তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা থেকে আমরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রচারনা শুরু করলাম। আমরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এক পতাকার তলে সমবেত হয়েছি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনও নীতির প্রশ্নে আপোষ করে না। তিনি আসন্ন ফেরুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে জনগণের সেবক হতে সুযোগ প্রদানের জন্য সাড়ে ৭ লাখ ভোটারের নিকট আহবান জানান। তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করবে। তাই ভোটের মাঠে দেখা হবে। আপনাদের দোয়া নিয়ে পাশে থাকতে চাই। মহান আল্লাহ যেন সেই তৌফিক দেন।
জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, এ দেশের উন্নয়নে অতীতে বিএনপির ভূমিকা ছিল এবং আগামী দিনেও বিএনপি সরকার গঠন করে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সুতরাং সবাই ভোটের মাঠে থাকবেন, কাজ করবেন। দলের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে দেখিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, কেউ হাংকিপাংকি শব্ধ উ”চারণ করবেন না।
কফিল উদ্দিন বলেন, আমরা আসন্ন নির্বাচনে কেউ ঘরে বসে থাকব না। প্রতিদ্বন্দ্বীকে কেউ দুর্বল ভাববেন না। ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে মাঠে থাকতে হবে।
আলহাজ্ব রেফাত উল্লাহ বলেন, ১৬টি বছর তারা নির্বাচিত বলে ঘোষণা দিয়ে বেড়াতেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ফ্যাসিবাদী ছিলেন এবং নির্বাচিত ছিলেন না।
খন্দকার শাহ মাইনুল হোসেন বিল্টু বলেন, জামায়াত মুখে ইসলামের কথা বলে কিš‘ বাস্তবে তারা ভন্ডামি করে। আমরা সবাই তারেক রহমানের কর্মী। তাই তার মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো: সালাউদ্দিনকে আগামি নির্বাচনে বিজয়ী করতে দলীয় কর্মীদের কাজ করতে হবে।
যে কারণে প্রচারনা শুরুতে তারাপুর মাঠ:
গত ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে কলেজ হোস্টেল মাঠে (তারাপুর মাঠ) ডা. সালাউদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে ¯’ানীয় বিএনপির কয়েকটি গ্রুপ একাট্রা হয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন। ওই মঞ্চে জামাল উদ্দিন সরকার তাদের সম্মিলিত প্রার্থী হিসাবে কফিল উদ্দিনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। উপ¯ি’ত অন্য নেতৃবৃন্দ এতে সমর্থন করেন। তবে রাশেদুল আহসান এর প্রতিবাদ জানিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে যান। এ ঘটনা ¯’ানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর সালাউদ্দিন, কফিল, রাশেদ, আইয়ুব ও শিহাব পৃথকভাবে ৩১ দফার প্রচারনা চালান। তারাপুর মাঠের সমাবেশের ঠিক দুই মাস পর গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্যা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে দলের মনোনয়ন ঘোষণার তালিকায় এই আসনের প্রার্থী হিসাবে ডা. সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করেন। এর পর কৌশল হিসাবে ৩ সেপ্টেম্বরের নেতৃবৃন্দকে সেই তারাপুর মাঠে একমঞ্চে তুলে ডা. সালাউদ্দিন নিজের ও দলীয় নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন।
ছিলেন না আইয়ুব-রাশেদ:
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতৃবৃন্দ একমঞ্চে উঠলেও ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল আহসান রাশেদ তাদের ঘনিষ্টদের নিয়ে ‘চুপ’ মেরে আছেন। আইয়ুব ও রাশেদ এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের অনুসারীরা জানিেেছন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় নামবেন তারা।
জানা গেছে, অভিমান করে তারা এখনো ডা. সালাউদ্দিনের সঙ্গে একমঞ্চে উঠেননি। তবে ধানের শীষের পক্ষে তাদেরকে মাঠে নামাতে সালাউদ্দিন ও তার ঘনিষ্টরা আইয়ুব-রাশেদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :