
সংবাদ রিপোর্ট: বিগত সরকার আমলে পরিবহনখাতে আমি দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা করে চাঁদা দিতাম। এ চাঁদার টাকা না দিলে পরিবহণ ব্যবসা বন্ধ করা ব্যতিত উপয় ছিল না। এখন এ চাঁদা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ হাসিনার সরকার ছিল চাঁদাবাজ অযোগ্য অথর্ব সরকার। সাভারে চাঁদাবাজদের কোন স্থান নেই। ইতোমধ্যে গাবতলী চাঁদাবাজ মুক্ত হয়েছে। তবে ১৫ বছরের জঞ্জাল ১৫ দিনেই মুক্ত করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে আর যুদ্ধের দরকার নাই। এখন যার যার পেশায় ফিরে যান। ১ সেপ্টেম্বর রবিবার সাভারে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সময় এ কথা বলেছেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ি আলহাজ¦ কফিল উদ্দিন। স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা বিএনপি’র সাবেক প্রচার সম্পাদক হাজী আমজাদ হোসেন, আমিনবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ আলী, বিএনপি নেতা প্রফেসর সাহিনুর ইসলাম, আমিনবাজার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী রিয়াজ উদ্দিন ফালান, মাহবুবুর রহমান, আবদুল বাতেন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় আলহাজ¦ কফিল উদ্দিন বলেন, জুলুম অত্যাচেরর শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিলেন হাসিনা সরকার। তারা আমার বাবা মা, ভাই বোন, কোম্পানির স্টাফদের আসামী করেছে। দীর্ঘ সময় জেল হাজতে থাকতে হয়েছে। মিথ্যা মামলার কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বাবা মারা যাওয়ার ১৩ দিনের মাথায় আমার মা মারা যান। যা ছিল পরিবারের জন্য আরেকটি ট্রাজেডি। তাদের দাফন কাফনের সময় আমরা সবাই উপস্থিত থাকতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্টে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় আমার ছোট ভাই হানিফ আসামী ছিলো। এ অভিযোগে কোন ভালো হাসপাতালে আমার বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারতাম না। ঢাকায় বাসা ভাড়া নিতে খুব ঝামেলা হতো। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজী বন্ধ হওয়ার কারণে দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হয় না। এখন সাভার থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে টিকিট খরচ কম হবে। এছাড়া তিনি সাভার প্রেসক্লাবের সদস্য ও মাছরাঙ্গা টিভির সাভার প্রতিনিধি সৈয়দ হাসিব বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শরীরের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া সাভার প্রেসক্লাবের অফিস সহকারি মঞ্জয় ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তার হাতটি কেটে ফেলতে হয়েছে। সাভার প্রেসক্লাব ভাংচুর ও পোড়ানোর ফলে প্রেসক্লাব ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আহত দুজনের জন্য ৫০ হাজার করে ১ লক্ষ টাকা এবং প্রেসক্লাব মেরামতের জন্য সহযোগিতার আশ^াস দেন।আলহাজ¦ কফিল উদ্দিন বলেন, বিগত সরকার আমার ৫টি তেলের পাম্পের সামনে মহাসড়কে দেয়াল তুলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলো। কোন গাড়ী পাম্পে ঠিক মতো ঢুকতে পারতো না এবং সুন্দরভাবে বের হতে পারতো না। তখন আমরা আমিনবাজারসহ সারা দেশে কোন ধরনের সভা সমাবেশ করতে পারিনি। গুম আর খুন ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। কোন কর্মসূচী দিলে তার বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ঢাকায় মিটিং থাকলে দেশের সমস্ত গাড়ী, লঞ্চ, ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হতো। একেক জনের বিরুদ্ধে শত মামলা দেয়া হয়েছে। জুলুম আর নির্যাতন এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছিল সরকারের রুটিন কাজ। যার কারণে আমরা স্বাধীন দেশে ছিলাম পরাধীন। এখন আমরা পুরাপুরি স্বাধীন দেশের নাগরিক। তিনি আগামী দিনে সকল কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
Leave a Reply