
ঢাকা-২০ (ধামরাই)
ধামরাই সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে মোট ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ৩ জানুয়ারি শনিবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই ঘোষণা দেন। মনোনয়ন বৈধ হয়েছে- বিএনপির প্রার্থী আলহাজ তমিজ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল রউফ, খেলাফত মজলিসের আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টির আহছান খান, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আরজু মিয়ার। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা-২০ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
হলফনামায় কার কতো সম্পদ:
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তমিজ উদ্দিন।
তমিজ উদ্দিন (বিএনপি): তমিজ উদ্দিনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ আছে প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ, স্ত্রীর কাছে ৪৭ লাখ টাকার বেশি। স্থাবর সম্পত্তি ৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি; যার মধ্যে ধামরাই ও ঢাকায় একাধিক ভবন রয়েছে। ধামরাই বাজার এলাকায় সাততলা ভবনের মূল্য ৪ কোটি, ঢাকার গ্রীন রোড এলাকায় তিনতলা বাড়ি ৫ কোটি, এবং বিজয়নগর এলাকায় দুই তলা ভবন ২ কোটি টাকার। কৃষি জমি ৫০ শতাংশ, অকৃষি জমি ৬৪৯ শতাংশ। তিনি ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার ঋণও রয়েছে। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ, ভাড়া থেকে আয় ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ধামরাইতে স্থায়ী ঠিকানা আইংগন, বর্তমান ঠিকানা ঢাকার গ্রীন রোড। তার নামে ফৌজদারি মামলা আছে চারটি, বিগত সরকারের আমলে ১৫টি মামলা খালাস পেয়েছেন।
নাবিলা তাসনিদ (এনসিপি): ‘তরমুজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান নাবিলা তাসনিদের অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি, নির্ভরশীলদের নামে ২৬ লাখ, স্থাবর সম্পত্তি ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। নগদ ও ব্যাংকে ৬৭ লাখ টাকা। টাঙ্গাইল ও নরসিংদীতে প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি জমি। স্বামী ইমদাদুল হকের অস্থাবর সম্পদ ২৬ লাখ ৪১ হাজার, স্থাবর ৬৪ লাখ ৫০ হাজার। গুলশান নিকেতন এলাকায় বসবাস।
মো. আব্দুর রউফ (জামায়াতে ইসলামী): ব্যবসায়ী ও নিকাহ রেজিস্টার মো. আব্দুর রউফের আয় প্রায় ৬০ লাখ, স্থাবর সম্পত্তি ৩৮ লাখের কাছাকাছি, অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৬০ লাখ। তিনটি মামলা চলমান, ছয়টি মামলা খালাস।
মো. আশরাফ আলী (খেলাফতে মজলিস): মো. আশরাফ আলীর অস্থাবর সম্পদ প্রায় ২৬ লাখ টাকার নগদসহ, মোট কয়েক লাখ টাকার আর্থিক সম্পদ, এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ জমি। মূল আয় শিক্ষকতা থেকে।
আহছান খান (জাতীয় পার্টি): আহছান খানের বার্ষিক আয় ভাড়া ও ব্যবসা মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কৃষি জমি ১২০ শতাংশ, অকৃষি জমি ১.৮১৫ শতাংশ, অন্যান্য জমি ৬.৪৫৫ শতাংশ। টাঙ্গাইলের বাসিন্দা।
মো. আরজু মিয়া (জাসদ) : জাসদ মনোনীত মো. আরজু মিয়ার সম্পদের পরিমাণ সর্বনি¤œ। নগদ মাত্র ৫০ হাজার, স্থাবর সম্পত্তি ৫২ লাখ, অস্থাবর ৫০ হাজার টাকা।
Leave a Reply