
সংবাদ রিপোর্ট : ঢাকা রেঞ্জে ১৩ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) থানায় নিজস্ব সোর্স রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা গোপনে এসপিদের তথ্য দিবেন। রেঞ্জের ৯৮টি থানায় যে কোন পেশার মানুষ পরিচয় গোপন রেখে এই কাজ করবে। তাকে সোর্সমানি থেকে সন্মানি দেয়া হবে। প্রয়োজনে সোর্সমানির বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এসপির নিজস্ব সোর্স সব ধরনের অপরাধী এমনকি পুলিশের কোন সদস্য অপরাধে জড়ালে সে তথ্যও জানাবে। এরপর অভিযান চালানো হবে।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে তার কার্যালয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব নির্দেশনার কথা জানান।
তিনি বলেন, অনেক সদস্য ডিউটির সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বাইরে ঘুরাফেরা করেন, অন্যত্র যায়। এজন্য আচমকা রুলকল করতে বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরী হলে প্রতিরোধের জন্য এলার্ম প্যারেডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এসপিদের।
সদ্য অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন বলেন, গত ২৩ আগষ্ট ক্রাইম কনফারেন্সে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কৌশল প্রনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম পূরণ শতভাগ কার্যকরে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবকটি জেলা মাদকমুক্ত করতে র্যালি, সুশীল সমাজের সাথে বৈঠক, গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে অভিযান, এসপিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিবাবকদের মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার করা, কিশোর গ্যাং, শিশু হত্যা ও নির্যাতন, অপহরণ, নারী প্রতি সহিংসতা রোধে প্রয়োজনে রেঞ্জ অফিস থেকে রিজার্ভ ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কেন বছরের পর বছর আটকে আছে তার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসপিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশের গ্রেড-১ পদ তিনটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হলে কাজের পরিধি ও সেবার মান বাড়বে।
অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, থানায় সেন্ট্রি (দায়িত্বরত কনস্টেবল) অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি আগত ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানান। সেন্ট্রি যাতে মানুষের সঙ্গে ভাল আচারণ করেন সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার নির্দেম দেয়া হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং সভা, ওপেন হাউজ ডে’র মাধ্যমে মানুষ যাতে পুলিশের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে সেজন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply