
সংবাদ রিপোর্ট : সাভারে ৩৪ জনের লিজ বরাদ্দ বাতিল করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ। ২৮ জুলাই জমির লিজ বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে লিজকৃত জমি পুনরায় লিজ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এতে ব্যাপক সাড়া মিলে। তবে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার পরও পুনরায় লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তির পর উচ্চ আদালতে রিট করেছেন ভোগ দখলকারীরা। তারা একসনা লিজ নিয়ে জমি দখলে আছেন। আদালত চার সপ্তাহের জন্য নতুন লিজ প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাতে বলেছে। জেলা পরিষদ এর বিরুদ্ধে আপীল করবে বলে জানিয়েছে।
জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকার মুক্তির মোড় থেকে কাতলাপুর পর্যন্ত রাস্তার পূর্বপাশে সাভার, দক্ষিণ দরিয়াপুর, কাতলাপুর, কর্ণপাড়া মৌজায় ঢাকা জেলা পরিষদের সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তি অনেকের নামে লিজ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরামিকস বাজার ভাগলপুর জামে মসজিদের পক্ষে লিজকৃত।
জেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্কয়ার ফিট হিসাবে লিজমানি গ্রহণ করা হয়। কয়েক বছর ধরে নামমাত্র দর ধরে লিজমানি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকের টাকা বকেয়া। প্রথমে বকেয়া পরিশোধের চিঠি দেওয়া হয়। অনেকে টাকা পরিশোধ করেন। অনেকে এড়িয়ে যান।
পরিষদের কর্মকর্তারা দাবি করেন, লিজের শর্ত ভঙ্গ করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা ভাড়া তোলা হচ্ছে। কেউই শর্ত মানছে না। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নামমাত্র টাকা দিয়ে বাসা-বাড়ি, দোকান, হোটেল-রেষ্টুুরেন্ট তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
একজন স্টাফ জানান, অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ সম্প্রতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে জমি মাপের কাজ সরাসরি তদারকি করেন। এরপর গত ৯ জুলাই নতুন করে লিজ দিতে একসনা ইজারার জন্য জেলা পরিষদ দরপত্র আহবান করে। ২১ জুলাই দরপত্র বিক্রি ও ২২ জুলাই একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে উত্তরায় পরিষদ অফিসে সেগুলো খোলা হয়। এতে লিজ নিয়ে দখলে থাকা ব্যক্তি ছাড়াও নতুন অনেকে অংশ নিয়ে বাড়তি রেট দেন। যা বর্তমানে দখলে থাকাদের রেটের চেয়ে কয়েকগুন বেশি।
এদিকে, নতুন ইজারা প্রক্রিয়ার মধ্যেই বেশ কয়েকজন উচ্চ আদালতে রিট করেন রিট বহাল রাখতে। তারা জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত চার সপ্তাহের রুল দিলে জেলা পরিষদ এর জবাব দিয়ে আপীলের প্রস্তুতি নিয়েছে।
ভাগলপুর মসজিদ কমিটি ছাড়াও মোহাম্মদ আলী, উজ্জল, রুহুল আমীন, সাফায়েত, তালাশ, ভুলুসহ অনেকে আইনি প্রক্রিয়ায় লিজ বহালের চেষ্টা করছেন। এরমধ্যে ২৮ জুলাই জেলা পরিষদ লিজ বাতিল করে ৩৪ জনের বরাদ্দ বাতিল করে চিঠি দিয়েছে। ২৯ জুলাই তারা চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেছেন, একসনা লিজ নিয়ে অনেকে নবায়ন করেনি, শর্ত ভঙ্গ করেছেন অনেকে। এক ব্যক্তি বিভিন্ন নামে লিজ নিয়ে জমি দখলে আছেন। তাদের কারণে সরকার অনেক টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন করে লিজের জন্য জমা দেওয়া আবেদনে যে রেট পাওয়া গেছে তা বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুন- অনেকে শতগুন বেশি। ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি মোরাদ বলেন, রিটের আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপীল করা হবে। যারা সরকারি সম্পত্তি আইন বহির্ভূতভাবে দখলে রাখতে চাইছেন তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে। মোরাদ বলেন, এই সম্পত্তিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মার্কেট, আবাসন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এদিকে, লিজ নিয়ে দখলে থাকা একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, কোন রকম নোটিশ না দিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার চাইলে স্কয়ার ফিট প্রতি রেট পুন:নির্ধারণ করতে পারে উল্লেখ করে তারা বলেন, সুযোগ বা প্রস্তাব না দিয়ে সরাসরি লিজ বাতিলের উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া যৌক্তিক না। লিজের শর্ত মেনে স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করছেন। এই বিরাট এলাকার সবার লিজ বাতিল আদেশ বলবৎ থাকলে অনেক স্থাপনা ভাঙা পড়বে। তারা সম্মিলিত আইনগতভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
Leave a Reply