1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

ঢাকা জেলা পরিষদে অনিয়ম-দুর্নীতিই ছিল নিয়ম !

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

সংবাদ রিপোর্ট: ঢাকা জেলা পরিষদে পদে পদে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত ছাড়াও ভূাঁইফোড় বিল, সংস্কার, গাড়ি মেরামত এবং ভুয়া প্রকল্পের নামে আত্নসাত হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা।

অনুমোদন-ছাড়পত্র ছাড়াই ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ, রাস্তা-ঘাট নির্মাণে নয়ছয়, দুস্থভাতায়ও ভাগ বসানো হয়েছে। অনিয়মই যেন সেখানে ছিল নিয়ম। একাধিক নথি দেখে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে গত একযুগে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।

কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি কথা জানিয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেছেন, পূর্বের দুইজন প্রশাসক ও অফিসের অনেক কর্মকর্তা সিন্ডিকেট করে ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসব করেছে। তিনি বলেন, সব প্রকল্পের ফাইল পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করা হবে।

স্কুল নেই ব্যয় কোটি টাকা:

জেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৈবর্তপাড়া এলাকায় স্কুল নির্মাণে ২০২২ সালের ২২ জুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কাজ শেষ দাবি করে ঢাকা জেলার ধামরাই বান্নাল এলাকার মেসার্স আওয়াল ট্রেডার্স-এর ঠিকাদার অর্থছাড়ের চেক নিতে গেলে জালিয়াতি সামনে আসে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে স্কুলটির জন্য বরাদ্দ দেয় ৭০ লাখ টাকা। পরের অর্থবছর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরো ৪০ লাখ (মোট ১ কোটি ১০ লাখ) টাকা বরাদ্দ দেয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ আওয়াল বলেছেন, “ওই এলাকার একজন আমার লাইসেন্সের অধীনে কাজটি নেয়। নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়া গিয়েছিল।” কাজ না করে বিল তোলার কথা এড়িয়ে যান তিনি। পরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়া স্কুলটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। সেখানে বলা হয়, কৈবর্তপাড়ায় সরকারি কোনো বৈধ স্কুল নেই।

এই প্রকল্পের নেপথ্যে ছিলেন ওই এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপু। আত্নগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাড়ি মেরামতে ৩০ লাখ: পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকায় একটি মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্ট কিউএক্স জীপ গাড়ি কিনতে দরপত্র প্রদান করতে চিঠি দেন। কালো রঙের গাড়িটি কেনার দুমাস পরই ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৬ বার মেরামত, সার্ভিসিং ও মালামাল ক্রয় করতে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয় হয়েছে (তেল-মবিল ক্রয় বাদে)। ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৫৩ টাকা র‌্যাংগস ওয়ার্কসপ লিমিটেডকে পরিশোধ করা হয়। সন্দেহ হলে গত ২ এপ্রিল পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম র‌্যাংগস ওয়ার্কশপের হেড অফ সার্ভিসের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

র‌্যাংগস ওয়ার্কশপ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (হেড অফ সার্ভিস) সাঈদ চৌধুরী বলেছেন, “তারা যে তথ্য চেয়েছেন তা দেওয়া হয়েছে। নতুন গাড়ি নতুন হলেও নানা কারণে ওয়ার্কশপে নেওয়া হতে পারে।”এদিকে, মাহবুবুর রহমান ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের দায়িত্বকালে সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করেছেন ব্যক্তিগত চালক দিয়ে। সরকারি চালক জমির উদ্দিন গাড়ি না চালিয়েও বেতন-ভাতা তুলেছেন। জমির বলেছেন, তাকে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। মাহবুবুর রহমান প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন।

সম্পত্তি বেহাত: ২০২৩ সালের ৮ মে ঢাকা জেলা পরিষদের মালিকানার কাঁটাবনের ২০ শতাংশ জায়গা দখল করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ শুরু করে। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ওই জায়গার স্থাপনা সরিয়ে নিতে জেলা পরিষদ ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রথম চিঠি দেয়। ১২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয় আরেকটি চিঠি। তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেওয়া হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু কোনো সদুত্তর মিলেনি।

জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, জায়গাটির দাম বর্তমান বাজারমূল্যে শত কোটি টাকা। ২০১৫ সালে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মোহাম্মদপুরে চাঁদ মিয়া হাউজিং সোসাইটির ২ নম্বর সড়কে জেলা পরিষদের পাঁচতলা কনভেনশন সেন্টার ডিএনসিসি দখলে নেয়। প্রায় শত কোটি টাকার এই সম্পত্তি ডিএনসিসির দখলে রয়েছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকায় জেলা পরিষদের একটি মার্কেটের ৭২টি দোকান গুঁড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি।

গত ২ এপ্রিল ডিএনসিসি প্রশাসককে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক চিঠিতে ২০০২-৩ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত গাবতলী গরুর হাটের ইজারার ৫০ শতাংশ টাকা জেলা পরিষদকে দিয়ে দখলে রাখা ৪.১৬ একর জমি বুঝিয়ে দিতে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া, মিরপুরের গাবতলী মৌজায় ১৪ জন ইজারাদার মেয়াদ শেষেও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখলে রেখেছে বলে গত ৭ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পত্তি দাবি করে জেলা পরিষদের পত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “গাবতলী, মোহাম্মদপুর ও কাটাবনের সম্পত্তি ডিএনসিসি দীর্ঘদিন ধরে মেইনটেইন করে আসছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এনিয়ে কথা হয়েছে। দুই কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে বসে এর নিষ্পত্তি করা হবে।”

ঢাকা জেলা প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেছেন, সম্পত্তি উদ্ধারে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান হতে হবে।

মসজিদের টাকা আত্নসাৎ: বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল থেকে চার অর্থবছরে ১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ধামরাইয়ের সাবেক এমপি বেনজীর আহমদের নিজ গ্রাম বৈন্যায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গ্রামের জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে ২ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৫, পশ্চিমপাড়া পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ প্রকল্পে ১৩ লাখ, মসজিদ থেকে নাট মন্দির পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়নে ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ও স্ট্রিট লাইটের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, ‘মসজিদের এক থেকে দেড় কোটি টাকার কাজ করে বরাদ্দের পুরো ৩ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

সংস্কারে কোটি টাকা লুট: জনসন রোডে ভবন নির্মাণকালে দাপ্তরিক কাজের জন্য উত্তরা ৬ নং সেক্টরে (আজমপুর উত্তরা মডেল টাউন এলাকায়) ঢাকা জেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় সরানো হয়। গত ৬ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেখা গেছে, পরিষদের চেয়ারম্যানের (বর্তমানে প্রশাসক) অব্যবহৃত বাসভবনকে অস্থায়ী কার্যালয় বানানোর পর সংস্কার ও বিভিন্ন কক্ষের ইন্টেরিয়ার ডিজাইন কাজ করার জন্য ঢাকার কলাবাগানের অনেস্ট্রা লিমিটেডকে ৭০ লাখ ৪৬ হাজার টাকার দুটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৩১ টাকার প্রাক্কলিত মূল্যে আরেকটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মোট এক কোটি সাত লাখ ২০ হাজার ৬৩১ টাকার কাজের বিল তোলা হলেও সেখানে কার্যত কোন কাজ হয়নি।

ওই পত্রে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অসম্পূর্ণ কাজটি যৌথ পরিমাপের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।

কাজ বন্ধ ব্যয় শত কোটি টাকা : পুরান ঢাকার ৪৬-৪৭ জনসন রোডে ৭৩.২১ শতাংশ জমিতে পুরানো ও পরিত্যক্ত অফিস ভবনের স্থলে আধুনিক ২০ তলা অফিস কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু হলেও শেষ হয়নি। পুরো কাজ না করেই আটবারে ৯৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছে মেসার্স তমা কনষ্ট্রাকশন এন্ড কোম্পানী লিমিটেড। ১৬০ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৭০ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ পায় কোম্পানীটি। পরে তারা ৯ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ৯৯০ টাকা দাবি করলেও পায়নি। ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হলেও রাজউক, ওয়াসা, পরিবেশ, বিদ্যুৎ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস থেকে কোন ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। জটিলতা নিরসনে একযুগ পর গত ২০ জানুয়ারি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে প্রতিকার চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। এতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা করতে বলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ জেলা পরিষদের প্রশাসককে এক চিঠিতে ৭-৮ বছর ধরে কী কী জটিলতার কারণে উক্ত স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে তা জানতে চান। সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল জটিলতা নিরসনে জেলা পরিষদ থেকে রাজউকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তমা কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক আত্নগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাকরাইলে তাদের অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে।

জালিয়াতি: খলনায়ক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের নাম ব্যবহার করে গাবতলী এলাকায় ৯২.৩৬ শতাংশ জমি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশনের কারণে এর ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ডিপজল গত ৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেছেন এ ধরনের কোন রিট তিনি করেননি। তার নাম জালিয়াতি করে অন্য কেউ এ কাজ করতে পারে। জেলা পরিষদ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

দুস্থভাতায় ভাগ: ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন ৫০ জন দুস্থের জন্য এক চাহিদাপত্র (ডিও) দেন। দুদিন পর প্রশাসক প্রতিদিনকে ১০ হাজার টাকা করে মোট পাঁচলাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও কয়েকজন ষ্টাফ এতে ভাগ বসান বলে অভিযোগ রয়েছে।  একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন যারা দায়িত্বে ছিলেন অন্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

অনারবোর্ডের তথ্য মর্তে, মাহবুবুর রহমান ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। তার আগে হাসিনা দৌলা চেয়ারম্যান থাকলেও অনারবোর্ডে নাম নেই! গত ৩১ মার্চ থেকে প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ১৯ আগস্ট থেকে মোহাম্মদ মনিবুর রহমান, ১০ নভেম্বর থেকে কে এম আলী আজম, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে রাজা মুহাম্মদ আব্দুল হাই, ১৯ জুন থেকে আজমল হোসেন ও ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আজমুল হক প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। দুদক সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসিনা দৌলা, নিম্নমান সহকারী তৌহিদুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী রিয়াজ উল্লাহ, সাবেক হিসাব রক্ষক গোলাম মোস্তফা, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক, সাবস্ট্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মো. নূরনবী পাঠান, অফিস স্টাফ কমেট মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেছে। কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত এমন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তির জড়িত থাকার সম্ভবনা থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতানার মাধ্যমে দুর্নীতি করা হয়েছে। জড়িতদের জবাবদিহীতার আওতায় আনতে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদক তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেছেন, আগে জেলা পরিষদের একাধিক অভিযোগ তদন্ত ও মামলা হয়েছে। নতুন করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পেলে সেগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :