
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া)
সংবাদ রিপোর্ট : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য দাখিলকৃত ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৯টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ জানুয়ারি শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম এই সিদ্ধান্ত জানান। বাকি দুজনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. কামরুলের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশিদের মনোনয়নপত্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশ পূরণ করা হয়নি এবং তিনি হলফনামাও জমা দেননি। ফলে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. কামরুলের মনোনয়নে দলের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে মহাসচিবের স্বাক্ষর থাকায় তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই ত্রুটি সমাধান করলে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে গণ্য হতে পারে। যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু (বিএনপি), মো. আফজাল হোসাইন (জামায়াত ইসলামী), দিলশানা পারুল (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি), মো. ফারুক খান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এ কে এম এনামুল হক (খেলাফত মজলিস), ইসরাফিল হোসেন সাভারী (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি), শেখ শওকত হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ), মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ (জাতীয় পার্টি) এবং চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি)। মনোনয়ন স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী মো. কামরুল জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনে রয়েছেন এবং দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
হলফনামায় কার কতো সম্পদ:
এই আসনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ৯ জন প্রার্থীর সম্পদ বিবরণী উল্লেখ রয়েছে। তাদের অনেকের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ বিবরণীর হিসাবে গড়মিল রয়েছে। হলফনামার তথ্য মতে, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার টাকা আছে। যা ঢাকায় বিএনপির সব প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলের হলফনামায় সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর কোনো সম্পদের বিবরণ উল্লেখ নেই। হিসাব মতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আফজালের সম্পদ সবার চেয়ে কম। নগদ টাকা এনপিপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমান সমান। দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বিএনপি) : এক কোটি ৬ লাখ ৫৫ হাজার নগদ ও ৭ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। মো. আফজাল হোসাইন (জামায়াত ইসলামী) : ৫ লাখ ৫ হাজার নগদ টাকা ও ২১ লাখ ৮ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তিনি ৭ বিঘা কৃষি জমির মূল্য দেখিয়েছেন দেড়লাখ টাকা। এ কে এম এনামুল হক (খেলাফত মজলিস): ৬ লাখ এক হাজার নগদ টাকা ও ৬৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (এলডিপি) : ১৮ লাখ ১১ হাজার নগদ টাকা ও ৪ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। ইসরাফিল হোসেন সাভারী (এনপিপি) : ৪ লাখ এক হাজার নগদ টাকা ও এক কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ (জাতীয় পার্টি) : চারলাখ এক হাজার নগদ টাকা ও এক কোটি চার লাখ ১১ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। মো. ফারুক খান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) : ১৪ লাখ ৮৩ হাজার নগদ টাকা ও এক কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। শেখ শওকত হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ) : ১৮ লাখ ২৬ হাজার নগদ টাকা ও ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। দিলশানা পারুল (এনসিপি) : তিনি অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী। সেখানে তার বার্ষিক আয় ২২ লাখ টাকা। নগদ ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা ও ৭০০ অষ্ট্রেলিয়ান ডলার (৮৫ হাজার টাকা) রয়েছে তার। স্থাবর কোনো সম্পদের বিবরণ উল্লেখ নেই তার হলফনামায়।
Leave a Reply