
সংবাদ রিপোর্ট : সাভারে একটি বাসে আগুনের ঘটনায় সংবাদকর্মীসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন মামলাটি করেন। মামলায় সেই রাতেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনি এলাকায় সাভার পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় আসামির তালিকায় ১৮ নম্বরে মো. কামরুজ্জামান খানের নাম রয়েছে, যিনি টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার। কামরুজ্জামান অপরাধবিষয়ক সংবাদিকদের সংগঠন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য। জানতে চাইলে মামলার বাদী আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘যদি কার সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তাহলে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।’ মামলায় বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। এতে সাক্ষী করা হয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের। তবে এজাহারে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ নেই। এজাহারে এসআই আব্বাস লিখেছেন, ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনি এলাকায় সাভার পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জনকে বাসে আগুন দিতে দেখার কথা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের অধিকাংশ মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে এবং অন্যরা বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিসকে কল করে আগুন নেভানো এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করার কথাও লেখেন এসআই আব্বাস। তিনি তিনজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যাদের প্রথমেই আছে আকাশের নাম। তার একটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে এজাহারে। তবে সেই নম্বরে কল করলে ঝলক নামে একজন বলেন, এটি তার নম্বর। ঝলক জানান, আকাশ তার এলাকার পরিচিত ছোট ভাই, যিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত। ঝলক নিজে স্বেচ্ছাসেবক দলে আছেন। তিনি জানান, আকাশ ও দুই নম্বর সাক্ষী মানিক পুলিশকে খবর দেন। তিনি সেখানে ছিলেন না এবং এ বিষয়ে আর কিছু জানেন না। সাক্ষী মানিকের যে ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে, সেখানে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফায়ার সার্ভিসের সাভারের ডিউটি অফিসার জানান, সোমবার রাতে বাসে আগুন লাগার ঘটনার পর যে কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন, সেই কর্মকর্তা এখন ছুটিতে। বাসে আগুনের ঘটনার মামলায় এক নম্বর আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে এসআই আব্বাস লিখেছেন, তিনি গাড়িতে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেছেন এবং অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, বাসটির মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয় এবং মামলার ১১ থেকে ২০ নম্বর আসামির নির্দেশনা, সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অন্য আসামিরা সমবেত হয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। কিন্তু সাংবাদিক কামরুজ্জামান খানকে কেন বা কীভাবে এই কথিত নির্দেশনা, সহায়তা কিংবা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এজাহারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, তার বাড়ি সাভারে হলেও তিনি বিগত তিন বছর ধরে সেখানে থাকেন না। গত কোরবানি ঈদের পর থেকে সাভার তো দূরের কথা, আমি গাবতলিও পার হইনি বলেন তিনি। জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন আমি এখনই তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে দেব যেন বিষয়টি পর্যালোচনা করে আসামির তালিকা থেকে তার (কামরুজ্জামান) নাম বাদ দেওয়া হয়।’ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি সাইফুল। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত নই। যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।’
Leave a Reply