
সংবাদ রিপোর্ট: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ফুটবল জ্বরে কাঁপছে পুরো শিল্পাঞ্চল সাভার। উপজেলার প্রবেশপথ আমিনবাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বহুতল ভবনের ছাদ থেকে অলিগলি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের পতাকা ও প্রিয় দলের জার্সিতে সেজে উঠেছেন ফুটবল প্রেমীরা। স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে একসঙ্গে ৪৮টি দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, বিশ্বকাপকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেই এই আয়োজন। তাদের মতে, দলভেদে সমর্থন থাকলেও সবার আগে রয়েছে বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা। ব্রাজিল সমর্থক উচ্ছ্বাস আহমেদ বলেন, আমরা ৪৮টি দেশের পতাকা লাগালেও সবার আগে বাংলাদেশের পতাকা রেখেছি। আমি ব্রাজিলের সমর্থক, এবার হেক্সা মিশন পূরণ হবে বলে আশা করছি। আর্জেন্টিনা সমর্থক আবিদ হাসান বলেন, বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে, তাই আমরা সবাই মিলে ৪৮টি পতাকা উড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি এবার আর্জেন্টিনা চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতবে। একই সঙ্গে স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপে খেলবে। আমিনবাজারের বাসিন্দা সিয়াম আহমেদ নিজের বাড়ির ছাদে ৫৫ ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙিয়েছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য পতাকা দেখা যায়। এবারও দলের শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্থানীয় বাজারগুলোতে জার্সি ও পতাকার বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। জাতীয় অন্ধসংস্থা শপিং কমপ্লেক্সের স্পোর্টস সামগ্রী ব্যবসায়ী মো. আশরাফ হোসেন বলেন, খেলা শুরু হওয়ার ১০-১৫ দিন আগ থেকেই জার্সি, পতাকা ও ফুটবল কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা আর্জেন্টিনার জার্সি ও পতাকার, এরপর রয়েছে ব্রাজিল ও জার্মানি। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সদস্য কবি মুহম্মদ শামসুল হক বাবু বলেন, খেলা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, তবে তা যেন বিভেদে রূপ না নেয়। খেলাকে খেলাই হিসেবে উপভোগ করতে হবে। খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাভারজুড়ে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
Leave a Reply