1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

সাভারে সমকামী বলে শিক্ষক খুনে তোলপাড়

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

সংবাদ রিপোর্ট : সাভারে হাত-পা বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় এক ব্যক্তি খুনের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পিবিআই তদন্তে নেমেছে। এ ঘটনায় জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। নিহত ওই ব্যক্তির নাম গোলাম কিবরিয়া (৪৩)। তিনি সাবেক স্কুল শিক্ষক এবং পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শুকুর মুন্সির ছেলে। মৃতদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২০ আগস্ট রবিবার বিকেল ৩টার দিকে সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশের পাশে পাওয়া চিরকুটে লেখা ছিল, ‘এই ব্যক্তি সমকামী করে পুলিশ ভাই, আমরা তাই মেরে ফেলেছি। ভাই ও অবৈধ কাজ করে…আমরা ইসলামের সৈনিক।’ এর আগে ২০১৬ জনের ২৫ এপ্রিল কলাবাগান লেকলার্কাসের বাসায় ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহাবুব রাব্বী তনয়কে ব্যক্তিকে সমকামীতার অভিযোগে জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করেছিল। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম ওই খুনের দায় স্বীকার করে। রবিার সাভারে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ত কিনা এর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের একাধিক ইউনিট।
স্থানীয়রা জানায়, গোলাম কিবরিয়া সাভার মডেল স্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। কর্মজীবন শেষে তিনি বাসাতেই প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি ওই বাসার একটি রুমে একাই থাকতেন। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। এদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র বলেছে, ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার তদন্ত চলছে। নিহতের ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোন জঙ্গি সংগঠন এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তারা কারা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ৮ নাম্বার এবং সাভার রেডিও কলোনী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক। তবে বর্তমানে তিনি টিউশনি ও জমি কেনাবেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি ভাইদের সাথে এই বাড়িতেই আলাদা থাকতেন। প্রতিদিন তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠলেও রবিবার দুপুর হয়ে গেলেও তিমি রুম থেকে বের না হওয়ায় তার রুমের কাছে গিয়ে দরজা বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পেছনের দরজায় গিয়ে সেটি খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, খাটের উপর লুঙ্গী দিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল মরদেহ।
এ ব্যাপারে নিহতের ছোটভাই আপেল মাহমুদ বলেন, আমার ভাই একাই এই বাসায় থাকতেন তিনি আগে স্কুলশিক্ষক ছিলেন তবে বর্তমানে তিনি সাভারের বিভিন্ন স্থানে টিউশনি করতেন, পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। আর আমার ভাইয়ের পায়ে সমস্যা থাকায় তিনি দীর্ঘক্ষণ হাটতে পারতেন না তাই একটি নির্দিষ্ট রিকশাযোগে সব জায়গায় যাতায়াত করতেন। আজকে সকালেও কিন্তু আমার ভাই তখনো বের হয়নি। নরমালি আমার ভাই ১২টার মধ্যেই ঘুম থেকে উঠে যেতেন তবে দুপুর হয়ে গেলেও তিনি ঘুম থেকে না উঠায় প্রতিবেশীরা রুমে গিয়ে আমার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। এসময় তারা আমার ভাইয়ের রুমের ভেতরে থাকা একটি স্টিলের আলমারী তালা ভাঙা এবং ভেতরের মালামাল তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। আমার জানামতে আমার ভাইয়ের কাছে জমানো অনেক টাকা ছিলো। এখন কি কারনে এবং কারা আমার আমার ভাইকে হত্যা করলো বিষয়টি আমরা বুঝতেছিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :