1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

ধামরাইয়ে সাবেক ইউপি সদস্য যুবদল নেতাকে পাশবিক কায়দায় হত্যা

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

ধামরাই সংবাদদাতা: ধামরাইয়ে মোহাম্মদ বাবুল (৫০) নামের এক যুবদল নেতাকে পাশবিক কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত বাবুল ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। প্রকাশ্যে এমন নৃংশস হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরের দিকে কুল্লা ইউনিয়নের আকসির নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মোহাম্মদ বাবুল কুল্লা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি। নিহতের স্ত্রী ইয়াস মিন জানান, তিনি ও তার স্বামী দুপুরে আকসির নগর আবাসন প্রকল্পে সরিষা মাড়াই করছিলেন।

এ সময় স্থানীয় সন্ত্রাসী আফসার, আরশাদ, শরীফ, মনির, শওকত ও রাজিব সেখানে অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে স্ত্রী ইয়াস মিন ও তার বাবার সামনে বাবুলকে ধরে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় স্ত্রী ও তার বাবা বাবুলের জীবন ভিক্ষা চাইলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও মারধর করে। পরে বাবুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। কী কারণে এ হত্যাকান্ড তদন্ত করছে পুলিশ। এবিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন,এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি ও আসামীদের আটকে অভিযান চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাবুলের চক্ষু উৎপাটন করা হয়েছে এবং হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে বাবুলের বাবা ইদ্রিস আলী কেউ একই কায়দায় ঐ প্রকল্প এলাকায় হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াসমীন আরও বলেন, ‘যারা মারছে তাদের একজনের নাম আপসান, মনির, আরশাদ, আরশাদের ছেলেসহ আরও দুইজন ছিল। গ্রামের আকসিরনগর হাউজিংয়ের সাথে এলাকাবাসীর ঝগড়া ছিল। ওই সময় সে (বাবুল) ওই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছিল। এখন কোনো জায়গায় তারে যাইতে দেই না। কোনো ঝামেলাও সে যাইতো না।’ নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ জুমার নামাজের সময় আকসিরনগর আবাসিক প্রকল্পের ভেতর শর্ষে মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন বাবুল হোসেন। পরে সেখানে স্থানীয় পাঁচ-ছয়জন টেঁটা, হাতুড়ি, লোহার পাইপসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে বাবুলকে মারধর করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাবুলের স্ত্রী ইয়াসমীন মারধরকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। মারধর শেষে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাবুলকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় লোকজন জানান, আকসিরনগর আবাসিক প্রকল্পের শুরুর দিকে জমি ক্রয়, মাটি ভরাটসহ নানা কাজে মালিকপক্ষের হয়ে কাজ করতেন কুল্লা ইউনিয়নে ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বাবুল হোসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে আবাসন প্রকল্পটির মালিকপক্ষ। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের পক্ষে কাজ করেন বাবুল। সম্প্রতি তিনি আবার আবাসন প্রকল্পের মালিকপক্ষের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। এতে স্থানীয় কয়েকজন বাবুলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। বাবুল হোসেনের ভাইয়ের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ‘আজকে বাবুলকে মাইরা ফেলছে। এর আগে তার বাপেরেও মাইরা পুকুরে ফালাইয়া রাখছিলো। কী কারণে মারছে আমরা কিছুই বুঝতেছি না।’ নিহতের স্ত্রী ইয়াসমীন বলেন, ‘আমার চোখের সামনে ওরা আমার জামাইরে (বাবুল) মারছে। চকের ভেতর (বিস্তীর্ণ ফসলি জমি) আমার জামাই (বাবুল) হোন্ডা দিয়া সরিষার মলন (মাড়াই) ‍দিছে। চকের ভেতরে ৫-৬ জন টেঁটা, হাতুড়ি, লোহার পাইপ নিয়া গেছে। সবাই আমাদের পাড়ার লোক। আমার জামাই (বাবুল) তাগো জিগায়, “ও মামু কী হইছে?” কিছু না বইলা তারা একটু দূর দিয়া গিয়া ঘেরাও কইরা দুইটা চোখ তুইলা ফালাইছে, হাত-পা ভাইঙ্গা মাইরা ফালাইছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :