1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

খুন হতে পারেন ৩ কারণে ১৩ বছর পর মিলছে ক্লু

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

সংবাদ রিপোর্ট : সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম শামসুজ্জোহা খানমজলিসের স্ত্রী সেলিমা খানমজলিশ মেহের হত্যাকান্ডের রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। মর্মস্পর্শী এ ঘটনার ১৩ বছর পর ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তারই বড় মেয়ে সেলিনা খান মজলিশ পপি ও গৃহপরিচারিকা আরতিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সুবল রায় নামে আরেক ব্যক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন কারাগারে আছেন। কি কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সে তথ্য পেয়ে যাচাই করছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে পপি, সুবল ও আরতি কিভাবে জড়িয়েছেন তার যোগসূত্র পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিস্টরা। তদন্তের প্রয়োজনে নিহতের পরিবারের আরো অনেকের জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। পিবিআইয়ের নজরদারিতে আছেন কয়েকজন।
তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পিবিআই প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, সাভারের সাবেক এমপির স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হতে আরো সময় লাগবে। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়ে পিবিআই ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা বলেছেন, ঘটনাটি যেহেতু স্পর্শকাতর এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে তাই তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনো জানানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তার বড় মেয়ে সেলিনা খান মজলিশ পপি, সুবল চন্দ্র রায় ও এবং আরতিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পপি ও আরতিকে ৩ দিনের রিমান্ড এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আটককৃত পপির মেয়ের জামাতা আবুল কালাম আজাদকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পিবিআই সূত্র বলেছে, গত ৬ জুন বৃহস্পতিবার পপি ও আরতিকে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তার তদন্তে সহায়ক তথ্য দিয়েছে। মামলার তদন্ত করছে পিবিআইয়ের সাব ইন্সপেক্টর ইমরান আহমেদ। তিনি বলেছেন, তদন্তে তিনটি কারণ সামনে এসেছে। এর মধ্যে পারিবারিক, রাজনৈতিক ও সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে শিঘ্রই এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে। তিনি বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিনজন কারাগারে রয়েছেন। সুবলের সঙ্গে নিহতের বড় মেয়ে পপির যোগাযোগ ছিল। সেলিমা খানমজলিস হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গত ৩০ মে বিকেলে সাভার থানা সংলগ্ন রেজিস্ট্রি অফিসের মোড়ের নেত্র বিজনেস সেন্টার থেকে সাভার মডেল থানার ইলেকট্রিশিয়ান সুবল রায়কে (৫২) আটক করে পিবিআই। এরপর পিবিআই তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে থাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২৯ মে বুধবার সাভার পৌর এলাকার আড়াপাড়া মহল্লা থেকে সুবলের দুরসম্পর্কের বোন স্বরস্বতীকে উত্তরাস্থ কার্যালয়ে ধরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৪ জুন সাভার মডেল থানা সংলগ্ন দক্ষিণপাড়ায় নিজ বাসভবনে প্রতিবন্দ্বী পুত্র আব্দুল কাদের খানমজলিশ সেতুর সামনে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে সেলিমা খানমজলিশকে। নিচতলায় থাকা মেয়েদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইদিন পর মারা যান তিনি। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাসার দোতলায় থাকতেন সেলিমা খানমজলিশ। অপর দুই মেয়ে স্বামী-সন্তানসহ থাকতেন নিচতলায়। নিহতের ছোট মেয়ে ইলোরা খানমজলিশ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছিলেন। হত্যাকান্ডের ঘটনার পরের দিন বিকেলে নিহতের ছোটভাই শাফিউর রহমান খান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি না করায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডটি নানা তদন্ত সংস্থার হাত বদল হলেও শেষ পর্যন্ত হত্যাকান্ডের কোন রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দায়িত্ব পেলে ১৩ বছর পর রহস্য উদঘাটনের খবর মিলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :