সংবাদ রিপোর্ট: সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদের পাশে ২ একরের বেশি সরকারি জমি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা (নং-৪৩/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকারকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি জায়গার সীমানা প্রাচীর ভাঙতে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাভার মডেল থানায় বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন বাদী হয়ে ১১ মে সোমবার মামলাটি দায়ের করেন। মামলার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে তিনি ৮টি স্থিরচিত্র (ছবি) সংযুক্ত করেছেন। এ ছাড়া সরকারি জায়গা দখলে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের অভিযোগে কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টরকে ১২ মে মঙ্গলবার শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
মামলার আবেদনে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন উল্লেখ করেন, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ২ একর ১৭ শতাংশ জমিতে টিনের সীমানা প্রাচীর ছিল। সোমবার দুপুরে ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকার সেখানে গিয়ে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে নিয়ে যায়। এতে সরকারের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার আর্জিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকার সরকারি মালিকানাধীন জমিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে হকাররা প্রায় ১০০ ফুট টিনের বাউন্ডারি ভেঙে ফেলে। এ সময় তারা কয়েকটি টিন লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া পুরো ঘটনায় প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং সরকারি জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। উল্লেখিত জমিতে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমি প্রশাসন। এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “মামলার পর সরকারি জমি দখলের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং টিন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।” সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. সেলিম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার শোকজ করে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে আগামী রোববারের মধ্যে (১৭ মে) জবাব পাওয়া যাবে। সোমবার (১৮ মে) তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।