সংবাদ রিপোর্ট : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনি এলাকায় ‘সাভার পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সংবাদকর্মীসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে মামলার আসামি করায় ঢাকা ও সাভারের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তদন্তহীন এ ধরনের মামলা রেকর্ড নিয়ে এবং এর নেপথ্যে কারা তার তদন্তের দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী মো. কামরুজ্জামান খান ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার এবং তিনি অপরাধবিষয়ক সংবাদিকদের সংগঠন ‘ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ক্র্যাব) এর সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য তিনি। কামরুজ্জামান খান সাভার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। জানতে চাইলে মামলার বাদী সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আব্বাস উদ্দিন মুঠোফোনে ঘটনার বর্ননা শুনে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে, মুঠোফোনের সংযোগটি আবার বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে । কোনভাবে হয়রানি করা হবে না। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত হয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এজাহারে দেখা গেছে, বাস পোড়ানো মামলায় বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। আর এই মামলার সাক্ষী করা হয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের। তবে এজাহারে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ নেই। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ঢাকা ও সাভারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের নামে নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনে করি, কারো বিরুদ্ধে মামলা লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত করা উচিৎ। এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে দৃষ্টি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছি। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশ (ক্র্যাব)- এর নিন্দা :
টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুজ্জামান খানের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’ ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশ ক্র্যাবে’র পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক নিন্দা ও প্রতিবার জানিয়েছেন। বুধবার ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বিবৃতিতে জানান, মামলার এজাহারে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তার কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে কি ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা পেশাগতভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মামলা ব্যবহার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর সাবেক সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।বিবৃতিতে তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান ছাড়া মামলা দায়ের করা হলে তা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হিসেবে গণ্য হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান তারা।