1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব কৌশলে ডা. সালাউদ্দিনের বড় জয়

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সংবাদ রিপোর্ট : ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ৬৫ হাজার ৬৯৩ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। সালাউদ্দিন তৃতীয় বারের মতো এই আসনে এমপি নির্বাচিত হলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোরে ভোট গণনা শেষে সাভার উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। আসনটির ২৭৫টি কেন্দ্রে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট। তার নিকটতম ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট। এই আসনে এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৬ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৭টি। আসনটিতে ভোট পড়েছে ৪৫.৪৩ শতাংশ।

নিজের কৌশলে বড় জয়:

কারো উপর নির্ভরশীল না হওয়া এবং প্রতিপক্ষকে ছোট করে না দেখার নিজস্ব কৌশলকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দেওয়ান ইদ্রিসপুত্র ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সালাউদ্দিন বিরামহীন প্রচারনায় স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকা ও দুই ভাইকে (দেওয়ান মইনুদ্দিন বিপ্লব ও দেওয়ান মহিউদ্দিন বিকাশ) সাথে রেখেছেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন না করে প্রত্যেককে নিজের এলাকায় প্রচারণা ও জনসংযোগ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। জামায়াত জোটে এনসিপির দিলশানা পারুল এই আসনে নতুন প্রার্থী হলেও তরুণ জেন-জি ভোট এবং জামায়াতের কয়েকজন নেতার কৌশলকে গুরুত্ব দেন সালাউদ্দিন। ২৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে জামায়াত নেতা, সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হাসান মাহাবুব মাষ্টার ‘চেঞ্জমেকার’ হতে পারেন-এমন তথ্য থেকে সালাউদ্দিন গণসংযোগ করেন। কারো ভরসায় না থেকে তিনি পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম-গঞ্জে ছুটেন দিনরাত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। মূলত সালাউদ্দিন কোনো কিছু গুরুত্বহীন ভাবেননি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মী ও ভোটাররা তার জন্য কতোটা বাঁধা হতে পারে সেদিকেও নজর ছিল তার। পোষাক কারখানার শ্রমিক ও আঞ্চলিক ভোটারদের গতিবিধি এবং ভোটে তাদের প্রভাব -সবমিলিয়ে সালাউদ্দিন ছিলেন খুবই সতর্ক।

একদিকে দলের নেতাকর্মীদের এক করে মাঠে নামানো অন্যদিকে সবকিছু একা সামলে নেন তিনি। কাউকে বাড়তি গুরুত্ব না দিয়ে ১০০ দিনের যে পরিকল্পনা তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন তা তাকে অনেকদূর এগিয়ে দেয়। বিতর্কিতদের দিকে চোখ রাখেন ঘনিষ্টদের দিয়ে।

ডা. সালাউদ্দিনের একাধিক ঘনিষ্টজন সাভার সংবাদকে জানিয়েছেন তার বড় জয়ের পেছনের এসব কারণ।

এদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে হিসাবের বাইরে ভোট পেয়েছেন এনসিপির প্রার্থী। এই ভোটের নেপথ্যে জেন-জি এবং জামায়াতের একাট্রা কাজ করেছে। পারুলকে দুর্বল প্রার্থী ভেবে বিএনপির অনেকে প্রচারণায় ঢিলে দেন। এই সুযোগ শাপলা কলির কর্মী-সমর্থকেরা ভোটারদের মন জয়ে জোর দেয়। ফলশ্রুতিতে তারা লক্ষাধিক ভোট পেয়েছে।

অন্যরা যতো ভোট পেয়েছেন:

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৪৫ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মো. বাহাদুর ইসলাম পেয়ছেন ২ হাজার ৪০৭ ভোট, এলডিপির চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী পেয়েছেন ৬৩৭ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন পেয়েছেন ৬৮৪ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইস্রাফিল হোসেন সাভারী পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল পেয়েছেন ২১৩ ভোট।

অন্যদিকে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৮টি। ‘না’ এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৭ হাজার ১১১টি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :