সংবাদ রিপোর্ট : সাভার থানা রোডে (আবুল কাশেম সন্দ্বীপ সড়ক) ফুটপাতে দখল করে নানা ধরনের শত শত দোকান বসানো হয় নিয়মিত। ফুটপাতের এসব দোকান থেকে সংশ্লিস্ট বাড়ি ও দোকান মালিকরা নিয়মিত ভাড়ার নামে চাঁদা তুলে আসছেন। থানা রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি উদ্যোগ নিয়ে ফুটপাত হাটাচলার উপযোগী করতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে সবমহল থেকে সাধুবাদ জানিয়েছে সমিতির নেতৃন্দকে। স্থানীয় প্রশাসন খুশি হয়েছে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে। তবে যেসব বাড়ি ও দোকান মালিকরা ‘টাকা তুলতেন’ তারা বেজায় নাখোশ বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে মুক্তি হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার দুইপাশে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। ১ মার্চ শনিবার দুপুর পর্যন্ত দেড় শতাধিক দোকান ও স্থাপনা তুলে দেওয়া হয়েছে। থানা রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি লন্ডনাস চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক মামুন পার্টি প্যালেসের কর্নধার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনসাফ কর্পোরেশেনের অন্যতম উদ্যোক্তা অলোকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক সাভার ফুড ব্যাংকের কর্নধার মাহিন বাপ্পীর নেতৃত্বে সমিতির সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযান তদারকি করছেন। চলছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমও।
এদিকে রোজা ও ঈদের আগে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারা হচ্ছে-এমন প্রচারনা চালিয়ে ফুটপাতের দোকানদারদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ার চেষ্টা করছেন এতোদিন ধরে ‘টাকা তোলা’ বাড়ি ও দোকান মাালিকরা-এমন অভিযোগ করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার নাম ব্যবহার করে ওইসব বাড়ি ও দোকান মালিকরা প্রতিদিন যে টাকা তুলে আসছিলেন দিন শেষে এর পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা বলে জানা গেছে। মূলত যার বাড়ি বা দোকানের সামনে ফুটপাতে বা রাস্তায় যে দোকান বসানো হতো সেই বাড়ি-দোকান মালিক ফুটপাতের ওই দোকান থেকে টাকা আদায় করে আসছিলেন। যদিও এমন বাড়ি ও দোকান মালিকের সংখ্যা হাতেগোনা। তবে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ব্যস্ততম এই সড়কে সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকতো। লোকজনের পায়ে হেটে চলাও দুস্কর হয়ে পড়ে। উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর ফুটপাত দখল করতে না পারে সেজন্য সমিতিকে নজরদারী ও তদারকি রাখার অনুরোধ করেছেন সমিতির সদস্য ব্যবসায়ীরা। এই সমিতির সদস্য দুই শতাধিক, দিন দিন সমিতির সদস্য সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।