1. kamruzzaman78@yahoo.com : kamruzzaman Khan : kamruzzaman Khan
  2. ssexpressit@gmail.com : savarsangbad :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫০ অপরাহ্ন

ঢাকা জেলায় লড়াই হবে প্রার্থী বিবেচনায়

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজনীতির সব রকম হিসেব নিকেশে রাজধানীর পাশে ঢাকা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসন খুবই গুরুত্বপূর্ন। সবকটি রাজনৈতিক দল আসনগুলো অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দলই চায় আসনগুলো ধরে রাখতে। এমনিতে ঢাকা জেলার আসনগুলো আগে বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে জয় ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনমূলক হলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে সেই লড়াই সেয়ানে সেয়ানে হবে কিনা তা নির্ভর করবে বড় দুই দলের প্রার্থী নির্বাচনের উপর। আবার একটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও বড় ফ্যাক্টর। ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। ঢাকা-২ আসনে আওয়ামী লীগে দুইজন এবং বিএনপিতে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ঢাকা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রাথী। ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগে ছয়জন ও বিএনপিতে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঢাকা-২০ আসনে আওয়ামী লীগে চারজন এবং বিএনপি থেকে পাঁচজন মনোনয়ন পেতে আগ্রহী হলেও একজন আশায় বুক বেঁধেছেন। জেলার পাঁচটি আসনে ভোটের যোগ বিয়োগ সমীকরণ জটিল। প্রার্থী নির্বাচনে দুই দল হিসেব ভুল করলে পস্তাতে হবে ফলাফলে। এসব নির্বাচনী এলাকায় ১৫ বছরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হলেও সঠিক প্রচারনার অভাবে এবং আত্নপ্রচারের কারণে তা সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে পারেনি। এর সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি।ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ছাড়া অন্য কেউ প্রকাশ্যে প্রার্থী হতে চান না। সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান অসুস্থ। এই আসনে বিএনপি থেকে ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক বিএনপির প্রার্থী হতে চান। জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য জাপার কো চেয়ারম্যান এডভোকেট সালমা ইসলাম প্রার্থী হতে চান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার জোট হলে হিসেবে হবে ভিন্ন। বিএনপি চাইছে তাদের পুরানো এই দুর্গ পুন:রুদ্ধার করতে। আর আওয়ামী লীগ চাইছে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। সালমা ইসলামের অবস্থানও সেখানে পোক্ত। ভোটের অঙ্কে তিনিও শক্ত প্রার্থী। সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা দল থেকে বহিস্কার হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এখানে দুর্বল হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার কমতি নেই তাদের। দোহারে ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭০ জন এবং নবাবগঞ্জে ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৭৬ জন।ঢাকা-২ আসনটি ঢাকার কারাঙ্গীরচরের কয়েকটি ওয়ার্ড, কেরানীগঞ্জ উত্তরের কিছু অংশ এবং সাভার উপজেলার আমিনবাজার, ভাকুর্তা ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট কামরুল ইসলাম ছাড়াও কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন আহমেদ নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী। এই আসনে বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানের পুত্র ব্যারিস্টার এরফান ইবনে আমান অমি ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান। এই আসনে আমান উল্লাহ আমানের ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। আর আওয়ামী লীগের কামরুল-শাহীন দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা বিভক্ত। এ অবস্থায় নৌকার জয় পেতে হলে বিবাদ মিটিয়ে সর্বশক্তি কাজে না লাগালে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হতে পারে।ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বিকল্প কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর তোড়জোড় নেই। বিএনপি থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী গয়েশ^র চন্দ্র রায় না হলে তার পুত্রবধু ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুন রায় প্রার্থী হতে আগ্রহী। বিপু উন্নয়নমূলক কাজ করলেও বিএনপি চেষ্টা করছে আসনটি পুনরুদ্ধার করার। আমান উল্লাহ আমান এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য।ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাভার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মনোনয়নের জন্য প্রচারনায় আছেন। মনোনয়ন পেলে লড়তে চান সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো: তৌহিদ জং মুরাদ। তবে পুরানো ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জোট বাধায় সাংগঠনিকভাবে ডা. এনামুর রহমান অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার কাছ থেকে সরে পড়ছেন অনেক চেনা মুখ। অনেকের মতে তিনি আছেন বেকায়দায়। এর সুযোগ নিতে চাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান প্রার্থী হতে চান বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রচার করছেন। এর মধ্যে ডা. সালাউদ্দিন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি পদ হারালেও লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উজ্জীবিত। থানা ও পৌর বিএনপিতে কোন্দল রয়েছে। তবে বিভক্ত নেতৃবৃন্দের কেউই গোপনেও নেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ধানের শীষ প্রশ্নে বরাবরই তারা একাট্রা হন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে চান আবুল কালাম আজাদ ও বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ। ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ, ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সিআইপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আল জামান এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাদ্দেস হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশী। বেনজীর আহমেদ শতভাগ আশাবাদী বললেও অন্যরাও মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য চেষ্টা করছেন। এদের মধ্যে ‘তিন মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণা দিয়ে পৃথকভাবে মাঠে নেমে গণসংযোগ করছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে। আহমদ আল জামান সপ্তাহে দুদিন গ্রামে থেকে সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অনুদান দিচ্ছেন। বিএনপি থেকে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতানা রহমান, ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নাজমুল হাসান অভি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জিয়া হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনোয়ার হোসেন রানা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হতে চান। তারা সরকারবিরোধী কর্মসূচী পালনের মধ্যদিয়ে শোডাউন করে আসছেন। দলের বাইরে তমিজ উদ্দেনের ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে। কোন্দল মেটাতে না পারলে এখানে খেসারত দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য খান মোহাম্মদ ইসরাফিল খোকন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :