
বিশেষ প্রতিনিধি: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ২৫৩টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পর থেকে ঢাকা-১৯ আসনে ভোটের আলোচনা বদলে গেছে। ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে পূর্বঘোষিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন এর পরিবর্তে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলশানা পারুলকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট।
মাওলানা মোহাম্মাদ আফজাল হোসাইন সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারন ভোটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আবার এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মনোনীত প্রার্থী পারুলের জন্য মাঠে নামেনি। এনসিপির প্রার্থী পারুল এই বৃহৎ শিল্পাঞ্চলের ভোটারদের কাছে অনেকটাই অচেনা মুখ। এ অবস্থায় জামায়াতের হতাশ নেতাকর্মীদের দাঁড়িপাল্লার ভোট শাপলা কলির বাক্সে কতটা যাবে এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর শক্ত অবস্থান থাকলেও ভোটের মাঠে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন ব্যাপক তৎপরতায় ভোটারদের কাছে তার পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। অন্যদিকে, এনসিপি মনোনীত দিলশানা পারুল এই আসনে একেবারেই নতুন মুখ। এর আগে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তারাশ) আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেখানে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জামায়াতের তুলনায় এনসিপির এই প্রার্থী ভোটের মাঠে একেবারেই দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
মাওলানা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন বলেন, সংগঠনের প্রতি আমরা আনুগত্যশীল। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনোর চেষ্টা করব। সবাইকে ধৈর্যধারণ করার পরামর্শও দেন তিনি।
এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রেখে বলেন, জেনে বুঝে আমার এ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পার্টি থাকলে পলিটিক্স দাঁড়াবে। এনসিপির আত্মবিশ্বাসের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি অনিহা প্রকাশ করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ব্যপক সমালোচনার ঝর উঠেছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের পর Joy Ahmed নামে একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “ঢাকা ১৯ ও ২০ বিএনপি প্রার্থীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা!”, Razaul Islam Akando লিখেছেন, “ঢাকা -১৯ দারিপাল্লা ছাড়া অন্য কোনো মার্কা আসলে ভোট কেন্দ্রে জামু না, কেউ আনুগত্যের দোহাই দিতে আইসেন না দয়া করে।”। এছারাও Nahid Al Gonim এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন “এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।”, Naeem Abrar এ বিষয়ে কমেন্টে লিখেছেন, “এনসিপি প্রার্থীকে ১৯ আসনে ৯৯% মানুষ চিনেই না”, Jowel Ahammed Sozan কমেন্টে লিখেছেন, ” NCP ভাইয়াদের বলবো তোমরা এখানে নির্বাচনে আসলে কোনো ফায়দা হবে না, তোমাদের বিন্দু মাত্র দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবতাবোধ থাকলে দয়া করে জামায়াতে ইসলামীকে সাপোর্ট দেওয়া উচিৎ, দয়া করে সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করো”, Forhad Hossain Fahim কমেন্টে লিখেছেন, “ঢাকা ১৯ আর ২০ এ এনসিপির দুইজনেই হারবে, জামায়াতের একদম ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীরা ভালোই ফাইট দিতে পারতো কিন্তু এখন আর কিছুই করতে পারবে না, ফলাফল একদম জিরো আসবে।”, Mohammad Shafiq Khan কমেন্টে লিখেছেন, “এই আসনে জামায়াত প্রার্থী জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী”, গোলাম রাব্বি তার কমেন্টে লিখেছেন, “আফজাল হোসাইন পুরো সাভার-আশুলিয়ায় গেছে, আর এই পারুলকে কেউ চিনেও না”। এমন আলোচনা সমালোচনায় মুখর সাভার-আশুলিয়ার পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান।
Leave a Reply